খাঁচায় মাছ চাষে ভাগ্য বদল
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৬-০৯-২০২৬ ০১:৩৩:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০৯-২০২৬ ০১:৩৩:২৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
একসময় ফুলজোড় নদীর পাড়ে দিনমজুরি কিংবা কৃষিকাজই ছিল অনেকের প্রধান আয়ের উৎস। এখন সেই নদীর পানিতেই খাঁচায় মাছ চাষ করে রায়গঞ্জের অনেক যুবক স্বাবলম্বী হয়েছেন। কম জায়গায় মাছ উৎপাদন এবং বাজারে ভালো চাহিদার কারণে উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ চাষ পদ্ধতি।
রায়গঞ্জ উপজেলার ভূঁইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ফুলজোড় নদীতে চোখে পড়ে সারি সারি মাছের খাঁচা। স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগেও এ এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষ করতেন প্রায় ৩০ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে। তাদের প্রায় এক হাজার ২০০টি খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে চার শতাধিক পরিবার।
চাষিরা জানান, প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে বাঁশ, ড্রাম, নেট ও জাল ব্যবহার করা হয়। আকারভেদে একটি খাঁচা তৈরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এসব খাঁচায় মূলত তেলাপিয়ার পোনা ছাড়া হয়। খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় পাঁচ মাসে মাছ বাজারজাত করার উপযোগী হয়। প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে গড়ে ১৭৫ টাকা খরচ পড়ে বলে জানান চাষিরা।
রায়গঞ্জের ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের সূচনা হয় ২০১১ সালে। স্থানীয় কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষ খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হন। পরে তারা বাঁশ, ড্রাম ও জাল দিয়ে খাঁচা তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাদের অনুসরণ করে অন্যরাও যুক্ত হন। বর্তমানে এটি অনেক পরিবারের নিয়মিত আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
উপজেলার চাষি আব্দুল্লাহ আল মামুন ফুলজোড় নদীতে ২৮টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন।
আরেক চাষি লোকমান হোসেন নদীতে ৬৫টি খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। তার মতে, সঠিকভাবে খাবার দেওয়া এবং পানির পরিবেশ ভালো থাকলে খাঁচায় দ্রুত মাছ বড় হয়। তবে পানির গুণগত মান নষ্ট হলে চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
রায়গঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফুলজোড় নদীতে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ২০০ খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। এতে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কার্যালয় থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাদের আরো সহায়তার আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, খাঁচায় মাছ চাষে নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, মানসম্মত পোনা, সঠিক খাবার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নদীদূষণ রোধ করা গেলে চাষিদের ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স